Image
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দু’দিন ব্যাপী জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলন আজ ৩ মে সকাল ৯ টায় মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে শুরু হয়েছে। এ সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সম্মেলন পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মোঃ শাহজাহান, এড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও কর্মপরিষদ সদস্য, জেলা ও মহানগরী আমীরবৃন্দ।
আমীরে জামায়াত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের পর দীর্ঘ ১৪ বছরে এ ধরনের প্রোগ্রাম করার সুযোগ পাইনি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আবার এই সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য মহান মনিবের দরবারে লাখো শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং তাদের সঙ্গীরা বাংলাদেশকে শাসন এবং শোষণ করেছেন। পুরো সময় জুড়ে তারা এই দেশের বিরোধী দল, মত এবং বিশেষভাবে ইসলামপন্থী জনগণের উপর বিভিন্ন পর্যায় তাণ্ডব চালিয়েছে। কমপক্ষে তিনটি গণহত্যা সংঘটিত করেছে। প্রথম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তৎকালীন বিডিআর হেডকোয়াটার পিলখানায়। যেখানে আমরা হারিয়েছি ৫৭ জন চৌকস দেশপ্রেমিক প্রতিশ্রুতিশীল সামরিক অফিসার। এর পরে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে, হেফাজতের আহ্বানে যে সমাবেশ হয়েছিলো সেই সমাবেশে রাতের বেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে গোটা অন্ধকারে নির্বিচারে মানুষগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। আর তৃতীয় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসের মধ্য দিনগুলো থেকে আগস্ট মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত। ফ্যাসিবাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা সহকর্মী, বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং আলেম-উলামা।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবাণীতে গত বছরের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। আপনারা সাক্ষী প্রথম তিনদিন কার্যত কোন সরকার ছিলো না। এ রকম পরিবর্তন যেসব দেশে সংঘটিত হয়েছে সেখানে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা পারিপার্শ্বিক এ ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং খুবই অনুভব করছিলাম জাতিকে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধৈর্য ধরার আহ্বান করা প্রয়োজন। আমরা ৫ আগস্ট রাতেই সে কাজটা করেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, এ পরিবর্তনের পর আমাদের প্রথম কাজ ছিলো শহীদ পরিবারের কাছে যাওয়া এবং দাঁড়ানো। দল হিসেবে নিশ্চই আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরেও মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা চেষ্টা করেছি শহীদ পরিবারের কাছে যাওয়ার। তাদেরকে সান্ত্বনা দেয়ার এবং একটা সংগঠন হিসেবে যতটুকু সম্ভব সেই সাপোর্টটুকু তাদেরকে আমরা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের সাপোর্টও তারা অনুগ্রহ করে গ্রহণ করেছে। এরপর আমাদের অগ্রাধিকার ছিলো যারা আহত এবং পঙ্গু হয়েছেন তাদের দিকে নজর দেয়া।
তিনি আরও বলেন, দেশে যদি অস্থিরতা বিরাজ করে, যদি দেশের অর্থনীতি মুখ থুবরে পড়ে তাহলে আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এজন্য এখানে নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের দায় রয়েছে। তবে পরিবর্তনকামী একটি গঠনমূলক দল হিসেবে জামায়াতের দায় অনেক বেশী। এজন্য আমরা সমসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে যারা হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, খুন, লুণ্ঠন ও অপহরণ করেছেন, জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন তাদেরও আমরা ন্যায্য বিচার দাবি করি। তারা যেন কোনভাবেই কোন ফাঁকফোকরে পার পেতে না পারে। আইনের আওতায় এনে তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবি আমরা করে আসছি এবং এ দাবি আমরা করতেই থাকবো। এ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা এরপরে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিলাম, এ সরকার গঠিত হয়েছে জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত কাজে সহযোগিতা করা। তাদের জনস্বার্থবিরোধী কোন কাজ আমাদের সামনে ধরা পড়লে আমরা সহযোগিতা করবো না, আমরা পরামর্শ দিবো, প্রতিবাদ করবো এবং ক্ষেত্র বিশেষে আবার প্রতিরোধ করবো।
তিনি বলেন, অবশ্যই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এই সুষ্ঠু এবং বস্তুনিষ্ঠতার স্বার্থে কতিপয় সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। এ বিষয় আমরা আমাদের সুপারিশমালা সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর কাছে পেশ করছি। আমরা সকল দলের প্রতি আহ্বান জানাবো রাজনীতি নিজের জন্য নয়। রাজনীতি দেশ এবং জনগণের জন্য। আমরা যত বেশী সহযোগিতা করবো ততো বেশী জাতি উপকৃত হবে। ততোটাই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে। ইতোমধ্যে আমরা বলেছি যে, অবশ্যই যারা অপরাধী তাদের বিচারটা দৃশ্যমান হোক জাতি এটা দেখতে চায়। এ স্বল্প সময় সব বিচার করা সম্ভব নয় এটা আমরাও বুঝি। কিছু বিচারতো করতে হবে। যাতে জাতির মনে আস্থা তৈরী হয়। যারা প্রধান অপরাধী তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে দৃশ্যমান বিচার জাতির সামনে অবশ্যই উপস্থাপন করতে হবে। আমরা সরকারের একটা দুর্বলতা লক্ষ্য করি, বিচারের ক্ষেত্রে আমরা আরো গতি চাই। সরকার বেশী তৎপর হয়ে এই কাজটা করবে, এটা আমরা দেখতে চাই। যদি এদের বিচার হয় তাহলে আগামী নির্বাচনেও কালো টাকা এবং পেশী শক্তির প্রভাব খাটাতে পারবে না। আর এ রকমের দুঃসাহস হয়তো কেউ দেখাবে না। কিন্তু বিচার যদি না হয় এর আশঙ্কা তো থেকেই যাবে। আমরা এই নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য এবং জনমতের শতভাগ প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আমাদের দেশের পার্লামেন্টকে কোয়ালিটিসম্পন্ন পার্লামেন্ট দেখতে চাই। এজন্য নির্বাচনকে পেশীশক্তি এবং কালো টাকার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থায় নির্বাচন হতে হবে। বিশ্বের ৬২টি দেশ এটা অনুসরণ করে। বেশীর ভাগ দেশ হচ্ছে উন্নত দেশ বলে যারা পরিচিত তারা সুফল পেয়েছে। এটা যারা একবার শুরু করেছে তারা আর বাদ দেয়নি। আমরা ট্রেডিশনাল নির্বাচন পদ্ধতি দেখেছি। তার ভিতরে সংসদের মধ্যে আইন প্রনেতা হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিরা লেখা দেখে যারা পড়তে পারেন না তারাও সংসদ সদস্য হয়েছে। তারা কি আইন রচনা করে বাংলাদেশের মানুষকে দিবেন? তারা কোন আইনটা সংস্কার সাধন করার মতো যোগ্যতা রাখেন? এজন্য আমরা বলেছি যে, আনুপাতিক হারে সেখাবে যাবে। যে যতো পার্সেন্ট ভোট পাবে সে ততো আসন পাবে। এতে করে কোন দলকে ছোট এবং বড় বলার কারো সাহস হবে না। দল ছোট হউক বড় হউক দল দলই এবং কোন দল কারো দয়ার পাত্র হবে না। তার নিজের দল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, অতিসম্প্রতি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিটি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর সুপারিশমালা সাবমিট করেছে। আমরা বিস্মিত, আমাদের বিদ্যমান কালচার তমদ্দুন এর সম্পূর্ণ বিপক্ষে। তারা কিছু সুপারিশমালায় এনেছেন এগুলো বিবেচনা করার প্রশ্নই আসে না। শুধু তাই নয় তাদের কিছু কিছু সুপারিশ আল্লাহর বিধানের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে পেশ করা হয়েছে। তাদের এই সুপারিশ গ্রহণ করলে কুরআন পরিবর্তন হয়ে যাবে। অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করে বলেছেন, কুরআন নাযিল করেছি আমি, রক্ষাও করবো আমি। এখানে একটা হরফ, নুকতাও কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এ বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা বলেছেন। ফেব্রুয়ারির শেষে এবং মার্চের তিন ভাগের দুই ভাগ সময় জুড়ে রোযা থাকবে, তার পরেই ঈদ। এই সময় কোন নির্বাচনের সময় নয়। দু’টি সময় আমরা নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত মনে করি। একটি হচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাস রোযা শুরুর আগে। আরেকটা হচ্ছে যদি কোন কারণে এই সময়ের ভিতরে সংস্কারগুলো এবং বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া জনমনে আস্থা সৃষ্টির পর্যায়ে না আসে তাহলে ম্যাক্সিমাম এপ্রিল পার হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর শহীদের রক্ত ও পঙ্গু ভাই বোনদের প্রতি সকলের সম্মান দেখানো উচিত ছিলো। কিন্তু কোন কোন দল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, তাদের নিজেদের সহকর্মীদেরকে সামাল দিতে। এই জন্য যেখানেই যাই এখন শুনতে হয় রেট আগের চেয়ে বেশি। কেন রেট আগের চেয়ে বেশি হবে? রেটই তো থাকবে না। সর্বত্রই কথা শুনতে হচ্ছে, কেন এমনটি শোনা যায়। চিহ্নিত অপরাধীদের ধরে পুলিশ থানায় নেয়ার আগেই তদবির থানায় চলে আসে। এই ধারা বন্ধ করতে হবে। স্বয়ং জামায়াতে ইসলামীর লোকেরাও যদি এটা করে মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে ঘৃণা করবে। এ কাজ যারাই করবে তাদেরকে মানুষ ঘৃণা করবে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে আমরা দেখতে পাচ্ছি গাজায় ফিলিস্তিনের উপর বছরের পর বছর জুলুম করা হচ্ছে। আমরা চাই এটার অবসান হোক। পার্শ্ববর্তী দেশসহ যেখানে ছুতোনাতায় বিশেষ করে ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে জুলুম করা হয়। এটা বন্ধ করা হোক।
তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আমরা একটা মজলুম দল। যুগে যুগে আমাদের উপর বিভিন্ন পক্ষ জুলুম করেছে। আমরা কোনও প্রতিশোধ নিতে চাই না। তবে আমরা যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, নিহত হয়েছি, আহত হয়েছি, গুমের শিকার হয়েছি অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, সেই জায়গাগুলোতে অবশ্যই আমরা আইনের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রাখি এবং আমরা চাইব।
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরসহ স্বাধীনতার পর থেকে যারা দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পাঁচার করেছেন, এদের সকলের অপকর্মের শ্বেতপত্র জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি এগুলোর সাথে রাজনীতির কালো হাত ছিল, নাহলে এত বড় অপরাধ তারা করতে পারতো না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বাংলাদেশ থেকে গত সাড়ে ১৫ বছরে ২৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আমরা চাই পাঁচারকৃত সকল টাকা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেয়া হবে এবং জনকল্যাণে সেটা ব্যয় হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিক বন্ধুগণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, আপনারা এই জাতির সন্তান, এই জাতির বিবেক, আয়না। আপনাদের দর্পণে সেই চিত্রগুলো তুলে ধরুন এবং আপনারাও এই কাজে সহযোগিতা করুন। তাহলে দেশ আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। আপনারা দায়িত্বশীল আচরণ করে সাহসিকতার সাথে এগিয়ে আসবেন সেই প্রত্যাশা আমরা রাখতে চাই।
আমরা মহান রবের দরবারে দোয়া করি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুরআন ভিত্তিক যে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র করতে চায় আল্লাহ যেন সেই কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার পথে আমাদেরকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সাহায্য করেন। আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাতিগঠনের যাত্রাপথে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার তওফিক দান করুন।


Image
যুব সমাজকে গড়ে তুলতে হলে কোরআন ও ইসলাম ছাড়া অন্য বিকল্প নেই: মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

সিদ্ধিরগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী উত্তর থানা শাখার উদ্যগে এক বিশাল সহযোগী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১লা মে বিকাল ৪ টায় অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়নগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার। উক্ত সমাবেশে সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর থানা শাখার আমির মাওলানা মোস্থফা কামালের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়নগঞ্জ মহানগর সেক্রেটারী ইঞ্জিঃ মনোয়ার হোসাইন ও সহকারী সেক্রেটারী মোহাম্মদ জামাল হোসাইন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, আজ মহান মে দিবস । আজকের এ দিনে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য ও দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে ১৮৮৬ সালে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিলো। শেষন ও নির্যাতন হতে মেহনতি মানুষের মুক্তি, তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং সামজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বদ্ধ পরিকর। এর ধারাবাহিকতায় নারায়গঞ্জ মহানগরী মেহনতী মানুষের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে যা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধ পরিকর। জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় এলে এ সব মেহনতি মানুষের জন্য নারায়নগঞ্জে একটি হাসপাতাল করা হবে। যেখানে শুধেু শ্রমিক ও অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। নরী শ্রমীকদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে গার্মেন্স নারী কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে গার্মেন্স নারী কর্মীদের নিরাপত্তার তেমন সুব্যবস্থা নাই। আমরা ক্ষমতায় গেলে এ সব নারী কর্মীদের নিরাপত্তার সুব্যবস্থ নিশ্চিত করব। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় আমরা আপনাদের কাছে কোনো সামাজিক কাজ নিয়ে আসতে পারিনি। এমন কি মসজিদের ইমাম পর্যন্ত কথা বলতে পারে নাই। কিন্তু এখন সময় এসেছে। ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে। তাই দল মত নির্বিশেষে এক হয়ে দেশ ও জাতির জন্য একযোগে কাজ করতে হবে। দেশ পুনর্ঘঠনে সকলকে এক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যতদিন থাকবে ততদিন মানুষকে কোরআনের দিকে, ইসলামের দিকে ডাকবে এবং ন্যায়ের পথে থাকার জন্য আহ্বান জানাবে। বর্তমানে যে আইন চালু আছে সে আইনে কোন মানুষের শান্তি নাই, সমাজে শান্তি নাই এমন কি পরিবারেও শান্তি নাই। বিগত সরকার দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোকে ধংশ করে গেছে। শুধু দেশ নয় তারা পরিবারগুলোকেও ধংশ করে ফেলেছে। যুবকদেরকে মাদকাসক্ত করে যুব সমাজকে পঙ্গু করে ফেলেছে। তাই দেশ সমাজ পরিবার এবং যুব সমাজকে গড়ে তুলতে হলে কোরআন ও ইসলাম ছাড়া অন্য বিকল্প নেই। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম সে লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে।

উক্ত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, মজলিশে শূরা সদস্য ইঞ্জিঃ আব্দুল বাকি, থানা কর্মপরিষদ সদস্য কামরুজ্জামান রিংকু, থানা সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম রিপন, ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল খালেক, রমজান আলি খান, নাছির উল্লাহ প্রধান, নাছির উদ্দিন, রাকিব, ইব্রাহিম খলিল, সাইদুল হক, শহিদুল ইসলাম, শাহনেওয়াজ দিপু প্রমুখ।


Image
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন হলেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে- মুহাম্মদ আবদুুল জব্বার

১মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যােগে সমাবেশ ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের চাষাঢ়া হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক গুলো পদক্ষিন করে মিশনপাড়া মোড়ে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণ শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার। এসময় তিনি বলেন মানুষের বানানো কোন তন্ত্র, মন্ত্র দিয়ে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। শ্রমিকের শরীরেরের ঘাম শুকানোর আগে ন্যায অধিকার দিতে পারে একমাত্র আল্লাহর আইন আল কুরআন। তিনি আরো বলেন বিগত আমলে একদলকে দেখেছি তারা বড় বড় কথার বুলি দিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাট করে শ্রমিকদের করেছে বঞ্চিত। এধরনের অন্যায় যারা করবে তাদেরকে শ্রমিক জনতা রুখে দিবে।

উক্ত সমাবেশ ও র‍্যালিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি হাফেজ আবদুুল মোমিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান হোসাইন মুন্নার সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদানে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন, এইচ এম নাসির উদ্দিন, মহানগরী কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা সাইফুূদ্দিন মনির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগরী সহ-সভাপতি মুন্সী মোঃ আব্দুল্লাহ ফাইইসুল, সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন, অফিস সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম সিকদার, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, মহানগরীর কোষাধক্ষ্য খোরশেদ আলম রবিন, নির্বাহী সদস্য এরশাদ খান ইকবাল হোসাইন আক্তার হোসেন, মহানগরী ও থানা শ্রমিক ফেডারেশন ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


Image
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক এর হাতে ২৪ এর জুলাই আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের স্মারক তুলে দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ

২৯ এপ্রিল সোমবার দুপুরেনারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের এর হাতে ২৪ এর জুলাই -আগস্ট আন্দোলনে শহীদদের স্মারক গ্রন্থ সহ সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে শহীদদের তথ্য ভিত্তিক ডকুমেন্টারি স্বারক তুলে দেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখার আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাব জাহিদুল ইসলাম মিঞার হাতে স্বারক তুলে দেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর জনাব মমিনুল হক সরকার, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ান, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য ২৪ এর জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হাসিনা সরকারের নির্বিচারে ছাত্র- জনতার উপর হামলার ঘটনায় প্রায় ১৮ শত শাহাদাৎ বরণ করে, জামায়াত সেই সকল শহীদদের নিয়ে স্বারক গ্রন্থ তৈরী করে।


Image
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে - মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

বন্দর থানা সাংগঠনিক উত্তর থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যােগে ২৮ এপ্রিল সোমবার বাদ আসর বন্দর নবীগঞ্জ জালাল সরদার জামে মসজিদ সংলগ্ন মোড়ে সাংগঠনিক দিন দফা বাস্তবায়নে ব্যাপক গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত দাওয়াতী গণসংযোগে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার। এসময় তিনি বলেন মানুষরে বানানো কোন আইন দিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব না। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। আর সেই কাজটিই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন জীবন চলার পথে সর্ব ক্ষেত্রে আল্লাহর আইন মানতে হবে। মসজিদে গেলে আল্লাহর লোক, আর বাহিরে অমুক ভাইয়ের লোক। এমন চরিত্র থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
বন্দরে সর্বস্তরের মাঝে গণসংযোগ কালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন, মহানগরী শূরা সদস্য মুহাম্মদ জাকির হোসাইন, বন্দর উত্তর থানা আমীর মাওলানা মুফতি আতিকুর রহমান, থানা নায়েবে আমীর রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি জহুরুল ইসলাম প্রমূখ।


Image
রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ব্যাখা প্রদান ডা: তাহেরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সফররত চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে বৈঠকের পর এ সম্পর্কে যে ব্রিফিং দিয়েছেন তাতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করে ২৮ এপ্রিল নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন:-

“গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সফররত চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিং-এ আমি যে বক্তব্য দিয়েছি তাতে মূলত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদভাবে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করার ব্যবস্থা ও তাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছি। আমার বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলে তা এ বিবৃতির মাধ্যমে নিরসন হবে বলে আমি আশা করি। এটিই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দৃষ্টিভঙ্গি


Image
আমীরে জামায়াতের সাথে ইইউ এর রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

২৭ এপ্রিল রবিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মি. মাইকেল মিলার এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠক শেষে নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, সম্প্রতি আমীরে জামায়াতসহ আমরা ব্রাসেলস সফর করেছি। সেখানে বেলজিয়াম সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আমাদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, উন্নয়ন-অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু এবং আমাদের প্রধান রফতানি খাত গার্মেন্টস বিষয়ে আমাদের অবস্থান তারা জানতে চেয়েছেন। এসব বিষয়ে আমরা তাদেরকে স্পষ্ট ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি।
ডা. তাহের আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা তাদেরকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা বলেছি। প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসাতে আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। সেই সাথে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং একই ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিষয়টিও আমরা তাদেরকে অবহিত করেছি। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালার বিষয়ে তাদেরকে বলেছি যে, যৌনকর্মীর লাইসেন্স প্রদান নারীর মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি চরম আঘাত। তারা এসব বিষয়ে আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তারা জামায়াতে ইসলামীতে শতকরা ৪৩ ভাগ নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে তারা দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
আমীরে জামায়াতের সাথে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।


Image
বন্দর ২৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যােগে গণসংযোগ পক্ষ উপলক্ষে সহযোগী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বন্দর ২৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যােগে গণসংযোগ পক্ষ উপলক্ষে সহযোগী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বন্দর থানা উত্তরের ২৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যােগে ২৩ এপ্রিল বুধবার বিকালে নবীগঞ্জ ইসলামবাগ এলাকায় গণসংযোগ পক্ষ উপলক্ষে সহযোগী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ। এসময় তিনি বলেন ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্তা, ইসলাম ছাড়া মানুষরে বানানো আইন দিয়ে সমাজে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব না। তাই আসুন কুরআন পড়ি, কুরআন বুজি, কুরআনের আলোকে জীবন গড়ি।
২৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আফসার উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওয়ার্ড নেতা নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য মুহাম্মদ জাকির হোসাইন, বন্দর উত্তর থানা আমীর মুফতী আতিকুর রহমান, সেক্রেটারি জহুরুল ইসলাম সহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


Image
অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিত নারী বিষয়ক সুপারিশমালা অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করতে হবে -অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০ এপ্রিল প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেছেন, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা পবিত্র কুরআনের বিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং ইসলাম ও মুসলিম পরিচয়ের অস্তিত্বের ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে দেশের ধর্মীয় ভারসাম্য, পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি অবিলম্বে অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিত নারীবিষয়ক সুপারিশমালা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯ এপ্রিল শনিবার নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হকের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, তা ইসলাম ও মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল নয়। কমিশনের সুপারিশমালার ২৫ পৃষ্ঠায় মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বাতিল করে নারী-পুরুষকে সমান সম্পত্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইন মূলত আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত উত্তরাধিকার বিধান দ্বারা রচিত। এটিকে বাতিল করার অর্থ সরাসরি কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এটি শুধু শরীয়তের অবমাননাই নয়, বরং মুসলিম পরিচয়ের মূলে কুঠারাঘাত।

তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনে যিনাকে মহাপাপ ও ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ প্রদত্ত সুপারিশমালায় যিনাকে উৎসাহিত এবং বিবাহকে নিরুৎসাহিত করে সরাসরি পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি এই ধরনের প্রস্তাবনা সমাজে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। সমাজকে অস্থিতিশীল করার সর্বনাশা চক্রান্তে কারা কলকাঠি নাড়ছে এবং মুসলিম পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে কারা ছিনিমিনি খেলছে জাতির সামনে অতি দ্রুত তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশমালার ৯ম পৃষ্ঠায় সকল ধর্মের জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা বাস্তবায়ন করা হলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাইকে ধর্মীয় পারিবারিক বিধান থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ধর্মহীন কাঠামোয় আসতে বাধ্য করা হবে। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। ৯ম পৃষ্ঠায় আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ প্রণীত CEDAW সনদের অধীনে বিবাহ ও পারিবারিক ক্ষেত্রে আইনের বাস্তবায়ন করা দরকার। আমাদের বক্তব্য হল, CEDAW-এর অনেক শর্ত সরাসরি ইসলামবিরোধী; যেখানে বিয়েকে শুধু একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখা হয় এবং ইসলামী নিকাহ ও অভিভাবকত্বের মতো মৌলিক ধারণাগুলোর বিরোধিতা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, উক্ত সুপারিশমালার ৯ম পৃষ্ঠার আরেক জায়গায়, নারী-পুরুষের পারিবারিক ভূমিকাকে অভিন্নভাবে দেখার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের ইসলামিক স্কলাররা মনে করেন, ইসলাম নারী-পুরুষের মর্যাদা সমান মনে করলেও, তাদের ভূমিকায় প্রাকৃতিক পার্থক্যকে স্বীকার করে। তাই ‘নারী-পুরুষের পারিবারিক ভূমিকাকে অভিন্নভাবে দেখার’ প্রস্তাবটি ইসলামী সমাজব্যবস্থাকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমতাবস্থায় দেশের বিজ্ঞ আলেম সমাজসহ আমরা মনে করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উপরোক্ত বিষয়াদি সুবিবেচনায় নিয়ে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন এবং দেশের সকল ধর্মের নাগরিকদের ধর্মীয় বিধান সমুন্নত রেখে এ অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিত সুপারিশমালা অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করবেন।


Image
সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ইসরাইলি পন্য বর্জন করার আহবান জানালেন - মাওলানা মঈন উদ্দিন আহমাদ

ফিলিস্তিনের গাজার একটি শহর নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে বর্বর ইসরাইল। শুধু মাত্র মুসলিম জাতি ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারনে ইসরাইলি গোষ্ঠী পেয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানলে খুশি হবেন বিশ্বের প্রায় ৬৫ টি দেশ মুসলিম দেশ, যেখানে দুই শত কোটির বেশি মুসলিম আছে। শুধু মাত্র ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারনে আজ ফিলিস্তিন সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা নিপীড়িত। তাই আসুন আমরা সকলে ঐঐক্যবদ্ধ হই, সেই সাথে বর্বর জাতি ইসরাইলির সকল পণ্য বর্জন করি।
১৪ এপ্রিল সোমবার বিকালে বন্দর লালখারবাগ এলাকায় বন্দর থানা উত্তর জামায়াতের ২৭ নং ওয়ার্ডের উদ্যােগে ঈদ পূর্নমিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈন উদ্দিন আহমাদ। এসময় তিনি আরো বলেন মানুষের বানানো কোন তন্ত্র- মন্ত্র দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব না। আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা হলেই দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।
বন্দর থানা উত্তর জামায়াতের আমীর মুফতী আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সেক্রেটারি জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম নাসির উদ্দিন, থানা কর্ম পরিষদ সদস্য মহিউদ্দিন মিয়া, ২৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি জহিরুল ইসলাম সহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।