- আত্মস্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুনাফেক একমাত্র বিএনপি: মোবারক হোসাইন
- গণ ভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য নারায়গঞ্জ মহানগরী কর্তৃক আয়োজিত সেমিনার ও জুলাই গণ অভ্যূথানে আহত সাংবাদিকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান
- বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে জামায়াতের প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- জুলাই আন্দোলনে আহত যুবদল নেতা বেলালের শারীরিক খোঁজখবর নিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমীর আব্দুল জব্বার
- গণমিছিল সফল এর আহবান ১১ দলীয় ঐক্য র

আত্মস্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুনাফেক একমাত্র বিএনপি: মোবারক হোসাইন
আত্মস্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুনাফেক একমাত্র বিএনপি: মোবারক হোসাইন
ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ, আহত যোদ্ধাদের প্রতি সংহতি এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের দাবিতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরী।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকার গ্রীন গার্ডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসাইন বলেন, "জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্ত ও আহতদের ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবো না। শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে।"
তিনি বলেন, "আল্লাহ তায়ালা শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। শহীদদের সম্মান রক্ষায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সময় ছবি তোলা থেকেও বিরত থাকতে হবে।"
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "আত্মস্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুনাফেক একমাত্র বিএনপি।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরে ভুলে যাওয়া হয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা থেকে সরকার সরে এসেছে। তিনি বলেন, "আমরা সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই। অন্যায় কোনো আবদার আর মেনে নেওয়া হবে না।" কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ আবদুল জাব্বার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেক শহীদ পরিবারের সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আহত যোদ্ধারাও তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল জাব্বার বলেন, "যারা চোখ, পা কিংবা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সরকার পাশে না থাকলেও আমরা শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই সম্পর্ক কোনো ভোট বা ক্ষমতার জন্য নয়, এটি দায়িত্ববোধ থেকে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, "শহীদদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক উঁচু। জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থাকবে।" কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও
নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মমিনুল হক সরকার বলেন, "২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। এই আন্দোলন রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হয়নি। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর জুলাই সনদের বিষয়ে অস্বীকৃতি দেখা যাচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদেরই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতে পারে।"
সভায় শহীদ রুবেলের স্ত্রী রুপা আক্তার, শহীদ রাজুর স্ত্রী আকলিমা, শহীদ পারভেজের বোন রোকসানা, শহীদ শাহীনের বাবা মো. হাসান, শহীদ হৃদয়ের মা, শহীদ জোবায়েরের ভাই অ্যাডভোকেট পিয়াস, শহীদ আদিলের পিতা ও ২৪-এর শহীদ পরিবার সোসাইটির সেক্রেটারি মো. আবুল কালাম এবং শহীদ মাবরুরের পিতা ও সংগঠনটির সহ-সভাপতি আব্দুল হাই বক্তব্য দেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি জামাল হোসাইন, এইচ এম নাসির উদ্দিন, কর্ম পরিষদ সদস্য মো জাকির হোসাইন, হাফেজ আব্দুল মোমিন সহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন ক্বারি আবু রাইয়ান এবং জুলাই আন্দোলনভিত্তিক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আব্দুন নূর।
মতবিনিময় সভা শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহত যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।